কুরবানীর পশু জবেহ করার নিয়ম, কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম | কুরবানির পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, উঠ) জবাই করার নিয়ম | কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম! সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। প্রিয় পাঠকগণ, কুরবানি আল্লাহ তাআলার একটি নিদর্শন। কোরবানির উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন। সুতরাং কোরবানি যথাযথভাবে আদায় করতে হলে কোরবানির পশু জবাই ঠিকভাবে করতে হবে। কেননা যদি কোরবানির পশু(গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট) সঠিকভাবে জবাই না হয় অথবা কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম জানা না থাকে। তাহলে কোরবানী শুদ্ধ হবে না। তাই আজকে আমরা আলোচনা করব, কোরবানির পশু জবাই করার সঠিক নিয়ম, কোরবানির গরু জবাই করার নিয়ম, কোরবানির ছাগল জবাই করার নিয়ম সম্পর্কে। আশা করি, আজকের পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে। অতএব দয়া করে পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। দ্বীন প্রচারের স্বার্থে অন্যদের কাছে প্রচার করুন বা শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

কুরবানীর পশু জবেহ করার নিয়ম,  কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম | কুরবানির পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, উঠ) জবাই করার নিয়ম

কুরবানীর পশু জবেহ করার নিয়ম,  কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম | কুরবানির পশু (গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, উঠ) জবাই করার নিয়ম

কোরবানির পশু জবাই করার জন্য যেসব নিয়মকানুন জানা প্রয়োজন বা দরকার। কুরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ধারাবাহিকভাবে নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১. আল্লাহ তাআলার নামে কোরবানি পশু জবাই করা 

কোরবানির পশু জবাই করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য। অতএব কোরবানির পশু গরু, ছাগল ও ভেড়া দুম্বা, উঠ জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে জবাই করতে হবে। কুরবানী পশু জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলবে। কেননা আল্লাহ বলেন, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, তোমরা তা থেকে আহার করো। (সুরা আনআম, আয়াত:১১৮)

২. কুরবানী দাতা নিজেই কুরবানী করবে। 

অর্থাৎ যিনি কোরবানি দিবেন। তিনি কুরবানির পশু জবাই করবেন। এটাই হলো রাসূলের সুন্নাত। কেননা রাসূল সাঃ বলেন, عن أنس قال ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين فرأيته واضعا قدمه على صفاحهما يسمي ويكبر فذبحهما بيده  অনুবাদ: হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি সাদা কালো বর্ণের ভেড়া দ্বারা কুরবানী করেছেন। তখন আমি তাঁকে দেখতে পাই তিনি ভেড়া দু'টোর পার্শ্বদেশে পা রেখে “বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার” পড়ে নিজের হাতে সে দু'টোকে যবাহ করেন। (বুখারী ৯/২০২ হা. ৫১৬০ কুরবানী অধ্যায়)

৩. ধারালো ছুরি ব্যবহার করা

কোরবানির পশু জবাই করার সময় ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে। কেননা ধারালো ছুরি ব্যবহার না করলে কোরবানির পশু কষ্ট পাবে। যা শরীয়ত সম্মত নয়। যেমন রাসুল সা: বলেন,

عن شداد بن أوس رضي الله عنه قال ثنتان حفظتهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال :« إن الله كتب الإحسان على كل شيء فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبح وليحد أحدكم شفرته وليرح ذبيحته » .

হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দু'টি বিষয় স্বরণ রেখেছি। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ (ইহসান) ফরয করেছেন। অতএব তোমরা যখন কাউকে হত্যা করবে, তখন উত্তমরূপে হত্যা করবে। আর যখন কোন জন্তু যবাহ করবে, তখন উত্তম পন্থায় যবাহ করবে এবং তোমাদের প্রত্যেকে যেন ছুরি ধার দিয়ে নেই। আর যবাহ কৃত পশুকে ঢাণ্ডা হতে দেয়। (নাসায়ী ৪/২৬৫, ২৬৮-২৬৯ হা. ৪৪০৬, ৪৪১৩-৪৪১৫ কুরবানী অধ্যয়, ছুরি ধারাল করার আদেশ, পরিচ্ছেদ : উত্তমরূপে যবাহ করা।) (وندب إحداد شفرته قبل الإضجاع যবাহ করার পূর্বে ছুরিতে ধার দেওয়া মুস্তাহাব। (রদ্দুল মুহতার যবাহ অধ্যায়।)

৪. জবাইকারী মুসলমান হতে হবে 

কোরবানির পশু বা হালাল পশুগুলো জবাইকারী মুসলমান হতে হবে। কেননা অমুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর নামে হালাল পশু গুলো জবাই করবে না। এজন্যই কোরবানির পশু বা হালাল পশুগুলো জবাইকারীকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। আর তাহলে কোরবানির পশু হালাল খাওয়া হালাল হবে।

(وشرط كون الذابح مسلما (أو كتابيا ذميا أو حربيا) (فتحل ذبيحتهما (لا) تحل (ذبيحة) غير كتابي من (وثني ومجوسي ومرتد) وجني وجيري لو أبوه سنيا যবাহকারী মুসলমান হতে হবে। কাফের নাস্তিক এবং মুরতাদদেও যবাহকৃত জন্তু হালাল নয়। (আদদুররুল মুখতার, যবাহ অধ্যায়।)

৫. জবাইকারী সাথে যারা ছুরি বা পশু ধরবে সকলকে বিসমিল্লাহ বলতে হবে

কোরবানির পশু জবাই করার সময় যারা জবাইকারীর সাথে জড়িয়ে ধরবে বা পশু ধরবে। সকলকেই বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলতে হবে। তবে কেউ যদি বলতে ভুলে যায়, তাহলে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু বলাটাই সবচেয়ে উত্তম। أراد التضحية فوضع يده مع يد القصاب في الذبح وأعانه على الذبح سمى كل وجوبا ، فلو تركها أحدهما أو ظن أن تسمية أحدهما تكفي حرمت  যবাহকারীর সাথে যারা ছুরি ধরবে তাদের সকলকেই বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার পড়তে হবে। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি পড়লে, আর কিছু সংখ্যক ছেড়ে দিলে, তা হালাল হবে না। (আদদুররুল মুখতার কুরবানী অধ্যায়, কুরবানী পশুর রং শাখা)

৬. কোরবানি দাতার জবাই করার সময় উপস্থিত থাকা

কোরবানির পশু জবাই করার সময় কোরবানিদাতাকে উপস্থিত থাকতে হবে। কেননা কোরবানি আল্লাহর জন্য করা হয়।

(وأن يذبح بيده إن علم ذلك وإلا) يعلمه (شهدها) بنفسه ويأمر غيره بالذبح كي لا يجعلها ميتة. কুরবানীদাতা নিজের হাতেই যবাহ করা উত্তম। তবে সে যবাহ করতে না পারলে অন্যের দ্বারা যবাহ করাতে পারবে। যবাহ করার সময় উপস্থিত থাকা মুস্তাহাব। (আদদুররুল মুখতার কুরবানী অধ্যায়, শাখাসমূহ)

৭. জবাইকারীকে কিবলামুখী বা পশ্চিমমুখী হওয়া

কোরবানির পশু জবাই করার সময় জবাইকারীকে পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। ( ومنها ) أن يكون الذابح مستقبل القبلة والذبيحة موجهة إلى القبلة যবাহকারীর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে, জন্তুর মুখকে কিবলামুখী করে যবাহ করা মুস্তাহাব। (বাদায়েউস সানায়ে’ যবাহ শিকার অধ্যায়, হালাল প্রাণি খাওয়া হালাল হওয়ার শর্ত পরিচ্ছেদ)

৮. কোরবানির পশুর মুখ কেবলা মুখী করা

যখন কোরবানির পশু জবাই করবে। তখন কোরবানির পশুর মুখ কিবলামুখী করতে হবে।

৯. কোরবানির পশুর রগ সবগুলো ভালোভাবে কাটা

কোরবানির পশুর চারটি রগ থাকে। যথা: শ্বাসনালী আর খাদ্য নালী ও মোটা দুইটি রগ।  চারটি রগ  কাটতে হবে। الذكاة في الحلق واللبة من غير فصل؛ ولأن المقصود إخراج الدم المسفوح وتطييب اللحم، وذلك يحصل بقطع الأوداج في الخلق كله ثم الأوداج أربعة : الخلقوم، والمريء، والعرفان اللذان بينهما الحلقوم والمريء، فإذا قرى ذلك كله فقد أتى بالذكاة بكمالها যবাহ করার শরয়ী নিয়ম হল, চারটি রগ (শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, উহার দুপাশ্বেও দু'টি রক্তের মোটা রগ) কাটতে হবে। তবে কমপক্ষে তিনটি রগ কাটা হলে জন্তু হালাল হবে। নতুবা হারাম হবে। (বাদায়েউস সানায়ে’ যবাহ শিকার অধ্যায়, হালাল প্রাণি খাওয়া হালাল হওয়ার শর্ত পরিচ্ছেদ)

১০. কোরবানির পশু দিনে জবাই করা

কোরবানির পশু দিনে জবাই করা মুস্তাহাব। দশে জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজ এর মধ্যবর্তী সময়ে যে কোন দিনে কোরবানি করা যাবে। পশু দিনে যবাহ করা মুস্তাহাব। (আদদুররুল মুখতার যবাহ অধ্যায়।)

১১. কোরবানির পশুর প্রাণ না যাওয়ার আগে চামড়া ছোলা

সাধারণত কোরবানির পশুর প্রাণ যাওয়ার পর চামড়া ছোলা হয়। আবার কিছু কিছু সময় দেখা যায়, কোরবানীর পশুর দম বা প্রাণ যাওয়ার আগে পশুর গায়ের চামড়া ছোলা শরু করে দেয়। যা মোটো সঠিক নয়। কেননা রাসূল সা: বলেন, পশুর  প্রাণ না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা পশুর চামড়া ছোলা শুরু করবে না। أن المستحب أن يكون الذبح بالنّهار فالمستحب أن يتربص بعد الذبح قدر ما يبرد ويسكن من جميع أعضائه وتزول الحياة عن جميع جسده জন্তুর প্রাণ পূর্ণভাবে বাহির না হওয়া পর্যন্ত চামড়া ছোলা যাবে না। পূর্ণভাবে প্রাণ বাহির হওয়ার পর চামড়া ছোলা মুস্তাহাব। (বাদায়েউস সানায়ে' যবাহ শিকার অধ্যায়, কুরবানীর আগে ও পরের শর্ত পরিচ্ছেদ।)

উপরের নিয়মগুলো মেনে কুরবানী করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে কোরবানির পশু জবাই করার তৌফিক দান করেন। আমিন

Tag: ছাগল জবাই করার নিয়ম, কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া, কোরবানির মাংস ভাগ করার নিয়ম, কোরবানির পশু জবাই করার নিয়ম, কোরবানির গরু জবাই করার নিয়ম, কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম, কোরবানির গোশত বন্টন করার নিয়ম, কোরবানির গরু জবেহ করার নিয়ম, কুরবানীর পশু জবেহ করার নিয়ম, কোরবানির দোয়া

Next Post Previous Post