মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য | মালেকী মাযহাবের মূলনীতি | maliki madhab rules 

মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য | মালেকী মাযহাবের মূলনীতি | maliki madhab rules 

মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য | মালেকী মাযহাবের মূলনীতি | maliki madhab rules

মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য | মালেকী মাযহাবের মূলনীতি | maliki madhab rules 


ইমাম মালিক (র) সর্বমোট ২০টি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে তাঁর মাযহাবকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মধ্যে ৫টি মূলনীতি আল-কুরআন থেকে, ৫টি মূলনীতি আল-হাদীস থেকে নিয়েছেন এবং অন্য ১০টি মূলনীতি কুরআন হাদীসের বাইরে থেকে নিয়েছেন।

আল-কুরআন হতে নেওয়া মূলনীতিসমূহ

১.  কুরআনের মূল বক্তব্য;
২. কুরআনের ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ;
৩. কুরআনের বক্তব্যের বিপরীত দিক;
৪. কুরআনের বক্তব্যের অনুকূল দিক;
৫. কোন বিষয়ের কারণ উদ্ঘাটন।

সুন্নাহ থেকে নেওয়া মূলনীতিসমূহ-

১. হাদীসের বক্তব্য;
2. হাদীসের ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ;
৩. হাদীসের বক্তব্যের বিপরীত দিক;
৪. হাদীসের বক্ত্যের অনুকূল দিক;
৫. মূল বিষয়ের কারণ উদঘাটন।

বাকী ১০টি মূলনীতি নিম্নরূপ

১. (ইজমা) বা ঐকমতো্য;
২. (কিয়াস);
৩. মদীনাবাসীদের কার্যাবলি;
৪. সাহাবীর বক্তব্য;
৫. উত্তম চিন্তা বা মতামত;
৬. অকল্যাণের পথ বন্ধ করা;
৭.এক বা মতোপার্থক্যের প্রতি দৃষ্টিপাত ও লক্ষ রাখা;
৮. বস্তুর মূলঅবস্থা;
৯. ব্যাপক কল্যাণমূলক চিন্তা;
১০. আমাদের পূর্ববর্তী শরীআত ।
এই সর্বমোট ২০টি মূলনীতির ভিত্তিতে ইমাম মালিক তাঁর মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আরো দেখুন: 

মালেকী মাযহাবের বিস্তৃতি বা প্রসার | maliki madhab countries 

যে কোন মাযহাব সাধারণত মাযহাব প্রতিষ্ঠাতার ছাত্রদের মাধ্যমে বিস্তৃতি লাভ করে। ছাত্রদের দ্বারা ইমাম মালিকের মাযহাৰ তিন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ তিনটি এলাকা হলো: ১. মিসর, ২. উত্তর আফ্রিকা ও স্পেন, ৩. হিজায ও মিশর ।

মিসর

মিসরে ইমাম মালিকের মাযহাব ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। অগণিত অনুসারী এই মাযহাবকে গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের যেসব ছাত্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তারা হলেন- ক. আবদুর রহমান ইবনে কাসিম, খ. আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম, গ. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হাকাম, ঘ. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ, ঙ. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম।

উত্তর আফ্রিকা ও স্পেন

এ এলাকায়ও ইমাম মালিকের মাযহাব ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। এই এলাকার অধিকাংশ জনগণ মালিকী মাযহাবের অনুসারী হয়। এখানে ইমাম মালিকের যেসব ছাত্র তাঁর মাযহাব প্রচার করেছেন তাঁরা হলেন: ক. আলী ইবনে যিয়াদ, খ. যিয়াদ ইবনে আবদুর রহমান, গ. আসাদ ইবনে ফুরাত, ঘ. আবদুল মালিক ইবনে হাবীব, ঙ. আবদুস সালাম ইবনে সায়ীদ।

হিজায ও ইরাক

হিজায এবং ইরাকের অনেক মানুষ ইমাম মালিকের মাযহাবের অনুসারী হয়। এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে এ মাযহাবের প্রচার ও প্রসার ঘটে। এ ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের তিনজন ছাত্রের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরা হলেন: ক. আবদুল মালিক ইবনে আবি সালামাহ, খ. আহমাদ ইবনে মুয়াজ্জাল এবং গ. ইসমাঈল ইবনে ইসহাক (রা)।
আরো দেখুন: 

মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য | maliki madhab rules 

এ মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম হলো-
১. কুরআন এবং হাদীসের বক্তব্যকে ইমাম মালিক সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
২. মদীবাসীদের কার্যাবলিকে তিনি দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি কঠোর বক্তব্য রেখেছেন যেমন- তিন মনে করেন, মুসলিম রাষ্ট্রে যিম্মীদের ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার নেই।
৪. তিনি কিয়াসকে কম গুরুত্ব দিয়েছেন।
৫. মাসআলার ক্ষেত্রে নিজের ইজতিহাদকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
৬. সর্বোপরি ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

Tag: মালেকী মাযহাবের বৈশিষ্ট্য, মালেকী মাযহাবের মূলনীতি, maliki madhab rules 
Next Post Previous Post