ইমাম গাজ্জালীর জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর জীবনী

ইমাম গাজ্জালীর জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর জীবনী

ইমাম গাজ্জালীর জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর জীবনী

ইমাম গাজ্জালীর জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী | ইমাম গাজ্জালী (র)-এর জীবনী


মূল নাম মুহাম্মদ। উপাধি হলাে হুজ্জাতুল ইসলাম। গাজ্জালী জন্মস্থানগত উপাধি। বর্তমান ইরানের খােরাসান প্রদেশের তুস জেলার তাহেরান শহরে ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে ৪৫০ হিজরীতে ইমাম গাজ্জালী (র) জন্মগ্রহণ করেন। দাদা সম্মানিত ব্যক্তি হলেও স্বীয় পিতা আহমদ তেমন প্রসিদ্ধ লােক ছিলেন না সে এলাকায়। বাল্যকালেই পিতৃহারা হন ইমাম গাজ্জালী (র)। তাঁর পিতা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকলেও জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল অনেক। তাই মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে তিনি ইমাম গাজ্জালী ও তাঁর ছােট ভাই ইমাম আহমদ গাজ্জালীকে স্বীয় বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে অত্যান্ত আবেগের সাথে বলে যান যে, আমি নিজে লেখাপড়া করতে পারিনি। ইচ্ছা ছিল আমার এ সন্তানদের লেখাপড়া শিখাব। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তা আর আমার পক্ষে সম্ভব হল না। তাই আমার বিশেষ অনুরােধ, তুমি আমার শিশু দুটিকে লেখাপড়া শিখিয়ে আমার অন্তিম বাসনা পূরণ করবে। অবুঝ দুটি শিশুকে আর নিজের সামান্য যা কিছু সম্পদ ছিল তিনি বন্ধুর হাতে তুলে দিলেন।

আরো দেখুন: মরনের আগে ও পরে ইমাম গাজ্জালী রঃ


বন্ধুও ছিলেন তারই মত একজন দরিদ্র ও দরবেশ মানুষ। বন্ধুর পুত্রদের প্রাথমিক লেখাপড়ার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি ওসিয়ত পূর্ণ করলেন। প্রাথমিক স্তর শেষ হলে স্নেহের স্বরে তাদেরকে বললেন, তােমাদের পিতার প্রদত্ত সম্পদ শেষ হয়েছে, তােমাদের লেখাপড়া এবং ভরণপােষণের জন্য আমারও এমন সামর্থ নেই যা দিয়ে তােমাদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করব । তােমাদের পিতার ইচ্ছা পূরণ করতে হলে কোন অবৈতনিক মাদরাসায় ভর্তি হতে পার। বাবার ইচ্ছা পূরনের উদ্দেশ্যে উপদেশ মত ইমাম গাজ্জালী (র) ও আহমদ গাজ্জালী ভর্তি হয়ে গেলেন নিকটবর্তী এক অবৈতনিক মাদরাসায়। উল্লেখ্য যে প্রাথমিক স্তরে ইমাম সাহেব কম সময়েই কুরআন হিফয করে নিয়েছিলেন। এখন ফিকাহশাস্ত্র অধ্যয়ন করে নিলেন সে সময়ের বিখ্যাত ফিকাহবিদ মাওলানা আহমদ ইব্‌ন মুহাম্মদ জারকানীর কাছে। অতঃপর তুস ত্যাগ করে জুরজানে গমন করেন উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে এবং উচ্চতর শিক্ষালাভে আত্মনিয়ােগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমাম আবু নযর ইসমাঈল (র)-এর তত্ত্বাবধানে। তখনকার যুগে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শুধু পুস্তকের পাঠ দিতেন না বরং যাতে পরবর্তীতে কোন বিষয় ভুলে গেলেও তা সংশােধন করে নিতে পারেন। অনুশীলনের জন্য খাতায় লিখিয়েও দিতেন, এসব নােটকে বলা হত ‘তালীকাত।' সে নােটগুলাে ছাত্ররা অতিযত্নে সংরক্ষণ করত। গাজ্জালী (র) অতি যত্নসহকারে রক্ষা করে রেখেছিলেন তাঁর উস্তাদের তালীকাতগুলাে। 

আরো দেখুন: জালালু্দ্দীন রুমি রহ: এর জীবনী 


শিক্ষা সমাপ্ত করে ইমাম জুরজানীর কাছে থেকে পাওয়া নােটগুলাে বুকে জড়িয়ে ইমাম গাজ্জালী (র) নিজ জন্মভূমি তাহেরান উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। পথে ইমাম সাহেবের সেই তালীকাতসহ সর্বস্ব লুট করে নিল একদল দস্যু। অন্যান্য জিনিস পত্রের জন্য তেমন দুঃখিত ছিলেন না তিনি। তালীকাতগুলাের জন্য বিশেষ বিব্রত হলেন এবং নােটগুলাে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরােধ করলেন দস্যু-সর্দাৱকে। সর্দার অনুরােধ শুনে উপহাসের হাসি হেসে ইমাম সাহেবকে বলল, তুমি তাে দেখি ভাল লেখাপড়া শিখেছ। নােটগুলাের ভেতরেই কি তােমার যাবতীয় শিক্ষা আবদ্ধ? মনে ভিতর কি কিছুই নেই তােমার যে, এগুলাের জন্য এভাবে ভেঙ্গে পড়ছ? উপহাসের পর সর্দার তালীকাতগুলাে ফিরে দিল। দস্যু সর্দারের ব্যঙ্গোক্তিতে ইমাম গাজ্জালী (র)-এর মন বিক্ষুব্ধ হলাে এবং অল্প সময়েই সে সমস্ত নােট মুখস্থ করে ফেললেন।

আরো দেখুন: ইমাম বুখারী রঃ এর জীবনী 


নিশাপুর নিযামিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ন:-  খ্যাতির শীর্ষে খােরাসানের অন্তর্গত নিশাপুর নিযামিয়া মাদরাসা তৎকালীন যুগের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ । নিযামুল মুলক সুলতান মালিক শাহির প্রধানমন্ত্রী প্রথমে একটি সাধারণ মাদরাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে একে সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করেন। সে সময় এর সমকক্ষ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাগদাদে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সে যুগের সেরা দুই মনীষী ইমামুল হারামাইন ও আল্লামা আবু ইসহাক শীরাজী। খােরাসানের নিশাপুরে থাকতেন ইমামুল হারামাইন আর দ্বিতীয়জন আল্লামা আবু ইসহাক শীরাজী ইরাকের রাজধানী বাগদাদে। তখন মাদরাসা নিযামিয়ার অধ্যক্ষ ইমামুল হারামাইন। 

আরো দেখুন: ইমাম আবু হানিফা রঃ এর জীবনী 


ইমাম গাজ্জালী (র)-এর জন্মভূমি তুসের নিকটবর্তী মাদরাসাটি বিধায় তিনি উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য ইমামুল হারামাইনেরই শরণাপন্ন হলেন এবং জ্ঞানের উচ্চ শিখরে আরােহণ করলেন অতিঅল্প সময়েই। ইমামুল হারামাইনের বিশিষ্ট তিন ছাত্র- হাররাসী, আহমদ ইবন মুহাম্মদ ও ইমাম গাজ্জালীর মধ্যে পরবর্তীকালে ইমাম গাজ্জালী যে মর্যাদা অর্জন করেছিলেন তা তাঁর উস্তাদ ইমামুল হারামাইনকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ৪৭৮ হিজরী সালে ইমামুল হারামাইন পরলােক গমন করলে সমগ্র দেশবাসী শােকে এমনি শােকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল যে, সমগ্ৰ নিশাপুর হাট-বাজার, দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়, তাঁর চার শতাধিক ছাত্র নিজেদের দোয়াত-কলম ভেঙ্গে ফেলে এবং এক বছর ধরে শােক পালন করে। ইমাম গাজ্জালী নিজেও নিশাপুর হড়ে বাগদাদে চলে যান উস্তাদের শােকে অভিভূত হযে।

আরো দেখুন: রুহ কি এবং কেন ইমাম গাজ্জালী 


বাগদাদের নিযামিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ গ্রহণ:- বাদশাহ সেলজুক মালিক শাহের প্রধানমন্ত্রী নিযামুল মুলক ইমাম গাজ্জালীর স্বভাব-চরিত্র ও অগাধ জ্ঞানের কথা শুনে মাদরাসায়ে নিযামিয়ার।অধ্যক্ষ পদে নিয়ােগ দান করেন। এ মাদরাসার সামান্য একজন শিক্ষক।হিসেবে নিয়ােগ পাওয়া ছিল সে সময় এক দুর্লভ সম্মানের বিষয়। আর বিজ্ঞতা যাচাইয়ের পথ ছিল পণ্ডিতদের বিতর্কানুষ্ঠান। প্রথা অনুসারে নিযামুল মুলক ও ইমাম গাজ্জালীকে, অধ্যক্ষ নিয়ােগ করার আগে এক বিতর্কানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন এবং তাতে তিনি জয়ী হন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৪ বছর

আরো দেখুন: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রঃ এর জীবনী 




হজ্জ ও যিয়ারত :-   বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান শেষে ইমাম গাজ্জালী (র) হযরত ঈসা (আ)-এর রওজা মুকামে খলীলে পৌঁছান। সেখান থেকে হজ্জের উদ্দেশে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা  মানাওয়ারার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। দীর্ঘকাল
মক্কায় অবস্থান করেন। এ সফরেই মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং বেশ কিছু দিন আলেকজান্দ্রিয়ায় কাটান। ইবন খাল্লেকানের বর্ণনা অনুসারে এখান থেকে তার ইউসুফ ইবন তাশকীনের সাথে সাক্ষাত করার জন্য মরক্কো যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। ইতিমধ্যে ইউসূফ ইবন তাশকীনের ইন্তেকাল হয়ে যায়।


কোন কোন মনীষী এ বর্ণনার যথার্থতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ইমাম গাজ্জালী (র) যখন সংসার বিচ্ছিন্নই হয়ে থাকলে তখন কোন
আমীর ওমরার সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা ব্যক্ত করবেন কেন? কিন্তু তাদের এ সন্দেহ সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ইমাম সাহেব যে শান্তি-স্বস্তি ও নিঝঞাট জীবন-যাপন করতে ইচ্ছাপােষণ করতেন, তা সেসব দেশে সম্ভব ছিল না বলে মরক্কো যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করে থাকলে তাতে অবাক হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না। যা হােক, দর্ঘি দশ বছর তিনি পবিত্র স্থানসমূহ ভ্রমণ করেন। অনেক সময় তিনি বিজন ভূমিতে বেরিয়ে পড়তেন এবং।একাধারে চল্লিশ চল্লিশ দিন ধরে সেখানে অবস্থান করতেন।


ইহইয়াউল উলুম প্রণয়ন:- বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবন আসীর লেখেছেন যে, ইমাম সাহেব এ সফরেই তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ইহইয়াউল উলুম রচনা করেন। হাজার হাজার আগ্রহী ব্যক্তি তার কাছেই দামেশকে সেটি অধ্যয়ন করে। কোন কোন নাম
করা ইতিহাসবিদ অবশ্য এ ঘটনার যথার্থতা সম্পর্কে এ কারণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন যে, সফরে এ ধরনের গ্রন্থ কেমন করে প্রণয়ন করা যায়? সত্য সত্যই ইমাম গাজ্জালী (র) যে আত্মবিস্মৃতির অবস্থায় এ সফরে বের হয়েছিলেন, তাতে রচনা প্রণয়নের মত কঠিন বিষয় কল্পনা করা যায় না । কিন্তু অনেক গবেষণা ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দশ বছরের সফরকালে তাঁর অবস্থা একই রকম থাকে নি। দীর্ঘ সময় তাঁর আত্মবিস্মৃতির অবস্থা থাকলেও বছরের পর বছর তিনি তরীকতের পথেও ছিলেন। আর সে সময়
তিনি সব রকম লেখাপড়ার কাজে নিয়ােজিত থাকতেন। এ সফরেই তিনি কাওয়ায়েদুল ইতেকাদ' নামক পুস্তিকা বায়তুল।মুকাদ্দাসবাসীদের অনুরােধে রচনা করেন।


পুনরায় শিক্ষকতায় আত্মনিয়ােগ:- পূর্বে বলা হয়েছে, যে বিষয়টি ইমাম সাহেবকে বিজন ভ্রমণে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তা ছিল সত্যের সন্ধান আর বাস্তবতার যবনিকা উন্মােচনের উদ্দীপনা। ইমাম গাজ্জালী (র) বলেন, “রিয়াযত মুজাহাদা অন্তর এমন স্বচ্ছতা সৃষ্টি করে যে, অন্তরের সমস্ত পর্দা উঠে যায়। আর যেসব সন্দেহ সংশয়গুলাে নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়।” সত্যোনন্মাচনের পর ইমাম
সাহেব লক্ষ্য করলেন, ধর্মের দিক থেকে যুগ নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার মুকাবিলায়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের দম বন্ধ হয়ে আসছে। এসব দেখে নিঃসঙ্গতা থেকে আবারও বেরিয়ে আসার ইচ্ছা করলেন। সৌভাগ্যক্রক্রে এ সময় সুলতানের পক্ষ হতে অধ্যাপনার কাজে পুনরায় আত্মনিয়ােগ করার নির্দেশ এসে আসে। আর নির্দেশটি এমন অনুরােধপূর্ণ ছিল যে, প্রত্যাখ্যান
করা হলে বিরক্তির কারণ হতে পারত। তথাপি ইমাম সাহেব দ্বিধান্বিত ছিলেন। সলা পরামর্শ করলেন সুফী বন্ধু-বান্ধদের সাথে । সবাই নিঃসঙ্গতা পরিহারের পরামর্শ দিলেন। পরামর্শ মতে ৪৯৯ হিজরীতে তিনি নিশাপুরের মাদরাসা নিযামিয়ায় অধ্যাপনার কাজে পুনরায় যােগদান করেন।


মাদরাসা নিযামিয়া থেকে পদত্যাগ:- ৫০০ হিজরীর মহররম মাসে এক বাতেনী আততায়ীর হাতে শহীদ হন ফখরুল মুলক। তার শাহাদাতের সামান্য কিছুদিন পরেই সম্ভবত ইমাম সাহেবও মাদরাসা নিযামিয়ার অধ্যাপনা ত্যাগ করে পুনরায় নিজ মাতৃভূমি তুসে আসেন। একটি মাদরাসা ও খানকা প্রতিষ্ঠা করেন নিজের বাড়ীর পাশেই। অতঃপর আমৃত্যু জাহেরী ও বাতেনী উভয় প্রকার জ্ঞান বিতরণ করতে থাকেন সেখানে বসেই।


সন্তান সন্ততি:- ইমাম সহেবের পুত্র সন্তান ছিল না। কয়েকজন কন্যা সন্তান ছিল। তাঁদের একজনের নাম সাতুল সিনা। তাঁর সন্তানদের বংশধারা সুদীর্ঘকাল অব্যহত থাকে। কাইয়ুমী শেখ মজদুদ্দীন থেকে ইমাম সাহেবের উপাধি সংক্রান্ত একটি রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করেছেন তাঁর কিতাবুল মিসবাহ গ্রন্থে। তাতে বলা হয়েছে যে, শেখ মজদুদ্দীন ষষ্ঠ পুরুষে সাতুল সিনার সন্তান
ছিলেন এবং ৭১০ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন


ছাত্র ও শিষ্য:-  ইমাম গাজ্জালী ছাত্র ও শিষ্যদের সংখ্যা ছিল অগণিত। স্বয়ং ইমাম সাহেব এক চিঠিতে সহস্রাধিক বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই খ্যাতির শীর্ষে আরােহণ করেন। তাশকীন বংশের আধিপত্য মিটিয়ে স্পেনে
বিরাট সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইবন তুমার্ত, আন্দালুসিয়ার প্রখ্যাত পণ্ডিত আল্লামা আবু বকর আরবী প্রমুখ ইমাম সাহেবেরই শাগরেদ ছিলেন।
ইমাম সাহেবের ছাত্র শাগরেদরা যেমন বিশ্বময় যশ-খ্যাতির শীর্ষে আরােহণ করেছিলেন, তেমনি তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীও কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্ব মানবতার জন্য পথনির্দেশনার অবলম্বন হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করে থাকবে।


সর্বশেষ কিতাব রচনা:- ইমাম গাজ্জালী (র) শেষ জীবনে পুরােপুরি দরবেশী অবলম্বন করেছিলেন এবং রাতদিন শুধু রিয়াত মােজাহাদায় কাটাতেন, তথাপি রচনা গ্রন্থনার কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেননি। উসূলে ফিকাহর মধ্যে মুস্তাশফা' যা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের রচনা, তিনি ৫০৪ হিজরীতে সেটি প্রণয়ন করেন। মুস্তাশফা রচনার একবছর পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।


পরলােকগমন:- ৫০৫ হিজরী ১৪ই জুমাদাসসানী তারিখে তাহেরান নামক স্থানে ইমাম সাহেব ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। ইন জউযী তার সমাধির বর্ণনা তাঁর ভাই ইমাম আহমদ গাজ্জালী থেকে রিওয়ায়াত করেছেন- সােমবার দিন ভােরে ইমাম সাহেব ঘুম থেকে উঠেন। ওযু করে নামায আদায় করেন এবং কাফনের কাপড় আনিয়ে চোখে মুখে ঘষে বলেন,
মালিকের হুকুম শিরােধার্য। একথা বলেই পা লম্বা করে বিছিয়ে দেন এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই পরলােকে চলে যান। ইমাম সাহেবের ইন্তিকালে সমগ্র ইসলামী জগত শোকাভিভূত হয়ে পড়ে। অধিকাংশ কবি শােকগাঁথা রচনা করেন।
Next Post Previous Post