আব্দুল কাদের জিলানী জীবন কাহিনী | আবদুল কাদের জিলানীর জীবনী | আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) জীবনী | বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহ জীবনী | abdul kader jilani jiboni bangla

বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ পাকের করুণার শেষ নেই। তার প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে রয়েছে কৌশল ও রহস্যের হাতছানি। বিশ্বের প্রতিটি পদার্থ তার শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর বহন করে। মহান বিধাতা এই ধরাধামে হযরত আদম আঃ কে সর্বপ্রথম মানব ও নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। তারপর অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণের মাধ্যমেই তার দীনকে এই ধরাপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত রাখেন। সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর মাধ্যমে নবুওয়াতের সিলসিলার পরিসমাপ্তি ঘটে। এর প্রতি ইঙ্গিত করেইয রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম ইরশাদ করেন

               انا خاتم النبيين لا نبي بعدي (الحديث))   

 অর্থ আমি শেষ নবী। আমার পরে আর কোন নবী আসবে না। নবুওয়াতের দরজা চিরতরে বন্ধ হবার পর নবুয়তের কার্যক্রম ধরাপৃষ্ঠে অটুট রাখতে সূচনা হয় বেলায়েতের। সেই বেলায়েত প্রাপ্ত বিশ্বনন্দিত অলি ওজগদ্বিখ্যাত তাপস গণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আসনে সমাসীন হলেন বিশ্ববিশ্রুত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

আব্দুল কাদের জিলানী জীবন কাহিনী | আবদুল কাদের জিলানীর জীবনী | আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) জীবনী | বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহ জীবনী | abdul kader jilani jiboni bangla

আব্দুল কাদের জিলানী জীবন কাহিনী | আবদুল কাদের জিলানীর জীবনী | আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) জীবনী | বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহ জীবনী | abdul kader jilani jiboni bangla  


                     { জন্ম ও বংশপরিচয় }

 হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ প্রান্ত ৪৭১ হিজরী সাল  শাবান মাসের ২৯ তারিখ। রাত্রির তৃতীয় প্রহর অতিত প্রায়। পূর্ব দিগন্তের সুবহে সাদিকের সোনালী আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। ফজরের আজান ধ্বনি উচ্চারিত হতে আর দেরি নেই। এমন সময়ে সমস্ত যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে ধরণীতে আগমন করেন কাদরিয়া তরিকার পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)। তার পিতার নাম- সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গি (রহঃ) , এবং মাতার নাম- সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা (রহঃ) । মাতৃ বংশের ধারা ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর সাথে আর এ কারণেই তাকে আল হাসানি ওয়াল হোসাইনী ও বলা হয়।


                { বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন }

 মুসলমানদের নৃত্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ শৈশবকালে সর্বপ্রথম কোরআন শরীফ পাঠ করেন। এবং অতীত শৈশবেই পাঠ শিক্ষা করতো সঙ্গে সঙ্গে মুখস্ত করে ফেলতেন। তিনি এতে ধী- শক্তির অধিকারী ছিলেন যে, জিলান নগরের কোন এক মক্তবে পড়াকালীন সময়ে তার ওস্তাদ তাকে বিসমিল্লাহ তথা তাসমিয়া পড়তে বলেন। তখন তিনি তাসমিয়া পড়ে কোরআনের প্রথম পঞ্চদশ পারা অতি প্রাঞ্জল ভাষায় মুখস্থ শোনান। তখন তার ওস্তাদ এই প্রখর স্মৃতিশক্তি দেখে অভিভূত হন। অতঃপর তিনি শিক্ষালাভের জন্য তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ নগরী বাগদাদে জান।


                        { জননীর নসিহত }

 বাগদাদের রওয়ানার সময় মাতৃ সকাসে বিদায় নিতে উপস্থিত হলে, তিনি হৃদয়ের নিধি, প্রাণের দুলালকে মহান আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে কতিপয় বিদায়কালীন নসিহত প্রদান করেন। তার মধ্যে একটি হলো- তুমি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবে না।


                       { বাগদাদ যাত্রা }

 অতঃপর বালক আব্দুল কাদের জিলানী জননীর পদধূলি মস্তকে নিয়ে বাগদাদ অভিমুখে রওয়ানা হন।  গাউসুল আজম রহঃ এ সময় অষ্টাদশ বালক হলেও ইতিমধ্যে তার কারামতের কথা দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অতঃপর কাফেলাতে দস্যুদলের আক্রমণ হলো। কিন্তু সত্যের চরম পরাকাষ্ঠা আব্দুল কাদের জিলানীর হাতে সবাই হাত দিয়ে মহা সত্যের পথে অগ্রসর হল।


                   { মাদ্রাসায় নিজামিয়া }

 তৎকালীন সময়ে বাগদাদ নগরীতে অনেকগুলি উচ্চমানের মাদ্রাসা ছিল। মাদ্রাসায়ে নিজামিয়া তন্মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। হযরত বড় পীর বাগদাত পৌঁছে এ মাদ্রাসায় নিয়মিত শিক্ষার্থীরুপে ভর্তি হন এবং ইসলাম শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে হাদিস, তাফসির, দর্শন, সাহিত্য ব্যকরনিক উচ্চ এলেম লাভে মনোনিবেশ করেন।


                 বড় পীর সাহেবের শিক্ষকমন্ডলী:

                      হাদীস শাস্ত্রের শিক্ষকগণ-

 হযরত মুহাম্মদ ইবনে হাসান বাকেললানী (রহঃ) , আবু বকর আহমদ ইবনে মুজাফফর (রহঃ) ,আবু সাঈদ ইবনে আবদুল করিম (রহঃ), আলী ইবনে মাইমুনা আল ফারেসী (রহঃ) আবু জাফর ইবনে আহমদ ইবনে হুসাইন ক্বারী (রহঃ) আবুল ফখর মুহাম্মাদ ইবনে মুখতার (রহঃ) প্রমুখ। এরা হলেন তার শীর্ষস্থানীয় হাদিসের প্রিয় ওস্তাদ।


                 { তাফসীরের শিক্ষকগণ }

হাজরত আব্দুল খাত্তাব মাহফুজ হাম্বলী (রহঃ) , আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে কাযী (রহঃ) , আব্দুল ওয়াফী আলী ইবনে আকিল হাম্বলী (রহঃ) , কাজী আবু সাঈদ আলী ইবনে মাখরুমী (রহঃ) প্রমুখ বিশিষ্ট মুফাসসিরগণ হলেন তাঁর তাফসীরের প্রিয় ওস্তাদ ।


                        { বাইয়াত গ্রহণ }

কাদরিয়া তরিকার ইমাম আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) আধ্যাত্মিক জগতের চরম সাফল্য লাভের পরেও একজন যোগ্য পীরের হাতে বাইয়াত ও মুর্শিদের শিশ্ব্যত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এবং সে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে তিনি তরিকতের শ্রেষ্ঠ সাধক শায়খ আবু সায়ীদ মাখদুমী (রহঃ) এর হাতে বাইয়াত হন। এবং অল্প সময়ে অবিশ্বাস্য কামিয়াবি হাসিল করেন।


                       { সাজারায় কাদেরিয়া }

 বড় পীর সাহেবের পীর ছিলেন- শায়খ আবু সাঈদ মাখদুম (রহঃ), তার পীর শায়েখ আবুল হাসান আলী (রহঃ) , তার পীর শায়েখ আবুল কাশেম (রহঃ) , তার পীর শায়খ আবু বকর শিবলী (রহঃ) , তার পীর ছিলেন জোনায়েদ বাগদাদী (রহঃ) , তার পীর ছিলেন হাসান বসরী (রহঃ) , তার পীর ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত আলী (রাঃ) তিনি সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা ﷺ এর সাহাবী ও খলিফা ছিলেন।


                       { শিক্ষকতা }

 হযরত গাউসুল আজম (রহঃ) জাহেরী ও বাতেনি ইলমে পূর্ণতা লাভ করে মৃতপ্রায় এলেমকে সজীব করার জন্য আল্লাহ তালার ইঙ্গিতে পুনরায় বাগদাদে আগমন করেন। তার পীর শায়েখ আবু সাঈদ মাখদুমি  (রহঃ) একজন যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ও কামিল ওলী ছিলেন। তিনি বাগদাদে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে নিজেই উহাতে শিক্ষকতা করতেন। অতঃপর তিনি নিতান্ত আগ্রহের সাথে তার মাদ্রাসা পরিচালনা ও শিক্ষকতা গাউসুল আজম বড় পীরের হাতে অর্পণ করেন। তিনি ইসলামের খেদমতের জন্য এই পথে চলাই সমীচীন মনে করলেন।


                    { পোশাক-পরিচ্ছেদ }

 তিনি আড়ম্বরপূর্ণ উত্তম পোষাক পরিধান করতেন। কিন্তু শরীয়ত বিরুদ্ধ প্রসাক উনি কখোনই ব্যবহার করেননি। তৎকালীন আলেমগণ যেরুপ পোশাক পরতেন তিনিও সেরা পোষাক ব্যবহার করতেন। 

পার্থক্য শুধু এটুকুই ছিল যে, তিনি বাজারের সর্বোচ্চ মূল্যের কাপড় ব্যবহার করতেন।


                { রাসুল ﷺ এর দর্শন লাভ }

 ৫২১ হিজরি সনের সাওয়াল মাসের মঙ্গলবার তিনি প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা ﷺ কে স্বপ্ন দেখেন। হুজুর তাকে বললেন 

              ادع الي سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة

লোকসমাজে কথা বল না কেন? তিনি বললেন দাদাজান আমি অনারবী বাসিন্দা, আরবের ভাষা বিদগনের সম্মুখে আমি কিভাবে মুখ খুলব?। হুজুর ﷺ বললেন মুখ খোলা। তিনি মুখ খুললেন - হুজুর ﷺ নিম্নের দোয়াটি সাতবার পড়ে তার মুখে ফু দিলেন।

استعنت بلا اله الا الله الحي  ألذي لا يموت ولا يخش سبحان من بعزتك القدرة والقهر. على العباد الطو لات لا إله إلا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم 

 সেই দিন থেকে পুরা বাগদাদে তার ওয়াজের ধুম পড়ে গেল।


                        { কঠোর সাধনা }

 দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সাধক এবং ওলী-আল্লাহ গন প্রত্যেকেই কঠোর সাধনা দ্বারা আল্লাহ প্রাপ্তি পথে সফল হয়েছেন। সাধনা ব্যতীত কেহ এর সফলতা লাভে সক্ষম হননি। কারণ এ পথ বড়ই বন্ধুর ও দুরহ। বড় পীরের সাধনা শুরু হয়েছিল বাল্যকাল হতেই। তিনি বলেন, ইরানের অরণ্যদিতে আমি একাকী পঁচিশ বৎসর কাল সাধনা করেছি, এ সময় আল্লাহ তায়ালার উপাসনা ছাড়া আমার অন্যকোন কার্য ছিল না ।একাধারে সুদীর্ঘ বছর আমি এশার অজু দ্বারা ফজরের নামাজ আদায় করেছি। অগণিত রজনীতে নিদ্রা যাওয়া তো দূরের কথা পলকের তরে চক্ষুদ্বয় মুদিত করিনি। 

শায়েখ আবুল ফাতাহ (রহঃ) বলেন তিনি রাতের প্রথম প্রহরে নামাজ, দ্বিতীয় প্রহরে জিকির,তৃতীয় প্রহরে ভোর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।


                          { ইন্তেকাল }

কাদরিয়া তরিকার এই মহান ইমাম ও পীর শেখ মহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) হিজরী ৫৬১ এর ১১ই  রবিউসানি এশার নামাজের পর তিনি দীর্ঘ মোনাজাত করেন। অতঃপর বলেন 


استعنت بلا اله الا الله الحي  ألذي لا يموت ولا يخشي  سبحان من تعذ زبا القدرة والقهر. على العباد باالطو لات  لا إله إلا الله محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم .


শেষোক্ত বাক্যটি তার মুখ হতে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রাণ বায়ু বের হয়ে যান্নাত মুখে প্রস্থান করেন।

                              أنا لله وإنا إليه راجعون 


আল্লাহ তায়ালা তার এই প্রিয় বন্ধুকে জান্নাতের উচু মাকাম দান করুন এবং আমাদেরকে ও তার আদর্শ অনুযায়ী জীবন গঠন করে তার মতো প্রিয় বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন! আমিন ।


Tag: আব্দুল কাদের জিলানী জীবন কাহিনী, আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহ জীবনী, আব্দুল কাদের জিলানী জীবনী, আবদুল কাদের জিলানীর জীবনী, হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর জীবনী, আঃ কাদের জিলানীর জীবনী, আবদুল কাদের জিলানী জীবনী, আব্দুল কাদির জিলানী জীবনী, আব্দুল কাদের জিলানী এর জীবনী, আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) জীবনী, আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি জীবনী, আব্দুল কাদের জিলানী বড় পীর সাহেবের জীবনী, বড় পীর সাহেব আব্দুল কাদের জিলানীর জীবনী, boro pir abdul kader jilani jiboni, abdul kader jilani jiboni bangla, abdul qadir jilani jiboni

Next Post Previous Post