সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ফজিলত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ার ফজিলত | সূরা আল হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত | সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত |সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত উচ্চারন এবং আরবি ও বাংলা

মানুষের কল্যাণে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। যা সকল মুমিনের পথ প্রদর্শক । যার মধ্যে নিহিত রয়েছে সকল সমস্যার সমাধান।যা মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে রয়েছে বিশেষ কিছু আয়াত। তার মধ্যে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ও বিদ্যমান।

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ফজিলত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ার ফজিলত | সূরা আল হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত | সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত |সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত উচ্চারন এবং আরবি ও বাংলা

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ফজিলত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ার ফজিলত | সূরা আল হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত | সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত | সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত | সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত উচ্চারন এবং আরবি ও বাংলা


সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত আরবি:- 

هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَٰلِمُ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ
هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ - هُوَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْمَلِكُ ٱلْقُدُّوسُ ٱلسَّلَٰمُ ٱلْمُؤْمِنُ ٱلْمُهَيْمِنُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْجَبَّارُ ٱلْمُتَكَبِّرُ سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ - هُوَ ٱللَّهُ ٱلْخَٰلِقُ ٱلْبَارِئُ ٱلْمُصَوِّرُ لَهُ ٱلْأَسْمَآءُ ٱلْحُسْنَىٰ يُسَبِّحُ لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত বাংলা উচ্চারণ:

(২২) হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম। (২৩) হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল ম’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আঝীঝুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বিরু ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন। (২৪) হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা-; ইউছাব্বিহুলাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াহুওয়াল ‘ আঝীঝুল হাকীম।



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত অনুবাদ:- 

(২২) তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। (২৩) তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্নশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র। (২৪) তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়। 



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ইংরেজি:- 

(22) Allah is He, than Whom there is no other god;- Who knows (all things) both secret and open; He, Most Gracious, Most Merciful. (23) Allah is He, than Whom there is no other god;- the Sovereign, the Holy One, the Source of Peace (and Perfection), the Guardian of Faith, the Preserver of Safety, the Exalted in Might, the Irresistible, the Supreme: Glory to Allah! (High is He) above the partners they attribute to Him. (24) He is Allah, the Creator, the Evolver, the Bestower of Forms (or Colours). To Him belong the Most Beautiful Names: whatever is in the heavens and on earth, doth declare His Praises and Glory: and He is the Exalted in Might, the Wise.



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের তাফসীর:- 

সূরা আল-হাশরের সর্বশেষ তিন আয়াতটিতে আল্লাহর কয়েকটি গুণাবলীর বর্ণনা পাওয়া যায়।

আয়াত ২২
আলিমুল-গাইবি ওয়াশ-শাহাদতী (অদৃশ্যের ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা) অদৃশ্যের ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা বৈশিষ্ট্যটির অর্থ, আল্লাহ দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জানেন।

আয়াত ২৩
আল-কুদুস
আল-কুদ্স বৈশিষ্ট্যটির অর্থ ‘সমস্ত রুটি থেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ’,আল্লাহ হলেন সর্বাত্মক ত্রুটি, ঘাটতি এবং অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত যা তাঁর চূড়ান্ত মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আল-মুমিন
মুমিন' শব্দটি যখন কোনও মানুষের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য তখন তার অর্থ একজন বিশ্বাসী, কিন্তু যখন এই বৈশিষ্ট্যটি আল্লাহর উপর প্রয়ােগ করা হয়, তখন এর অর্থ হ'ল যিনি শান্তি ও সুরক্ষা প্রদান করেন, যেমনটি ইবনে আব্বাস আর.এ ব্যাখ্যা করেছেন। এর অর্থ হ'ল যারা আল্লাহ ও তাঁর ম্যাসেঞ্জারে বিশ্বাসী তাদের তিনি সুরক্ষা এবং নিখুঁত শান্তি প্রদান করেন।

আল-মুহাইমিন

আল-মুহাইমিন গুণটি ইবনে আব্বাস আর.এ অনুসারে, মুজাহিদ এবং কাতাবাহ অর্থ- অভিভাবক | আরবি অভিধানটি আল-কামুস ব্যাখ্যা করেছেন যে এর রুটটি ‘হামান’ যার অর্থ দেখাশােনা করা।

আয়াত ২৪:
আল-মুসওয়াওয়ির (সকল আকারের প্রবর্তক অন্য কথায়, তিনি তাঁর তৈরি প্রতিটি জিনিসকেই আকার দেন। তিনি সমস্ত প্রাণীকে নির্দিষ্ট আকার দিয়েছিলেন যার দ্বারা তারা একে অপরের থেকে আলাদা হয়। প্রতিটি প্রজাতির একটি আকার অন্য সমস্ত প্রজাতির থেকে আলাদা একটি প্রজাতির মধ্যেও পুরুষ ও স্ত্রীদের মধ্যে আকারের পার্থক্য রয়েছে। তারপরে এমনকি এক লিঙ্গের ব্যক্তির আকারের মধ্যেও অগণিত পার্থক্য রয়েছে। আকার দেওয়ার উত্কর্ষতা এত উচ্চ মাত্রায় যে লক্ষ লক্ষ পুরুষ ও স্ত্রীলােকের আকারগুলি একে অপরের থেকে এমনভাবে পৃথক যে কোনও মুখই অন্য কোনও মুখের অনুলিপি নয়। যদি এটি না হত তবে কাউকে অন্যের থেকে আলাদা করা যেত না। সৃজনশীল শক্তির এই শ্রেষ্ঠত্ব এবং সিদ্ধি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নয়। যেমন তাকাব্বর (মাহাত্ম প্রদর্শন) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য অনুমােদিত নয় (যেমন কিবরিয়া তাঁর একান্ত বৈশিষ্ট্য), তেমনিভাবে আল্লাহ ছাড়াও কারও ছবি তৈরির অনুমতি নেই, কারণ এটিও আল্লাহর একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য। লাছুল আসমা-উল-হুসনা (তাঁর সুন্দর নাম) পবিত্র কোরআন আল্লাহ তায়ালার এই অতি সুন্দর নামগুলির সঠিক সংখ্যা দেয় নি। বিভিন্ন নবী হাদীছ তাদেরকে নিরানব্বই গণনা করেছেন। তিরমিজি তাদের খণ্ডে সকল নিরানব্বই নামগুলাে সংগ্রহ করেছেন। বহু বিদ্বান আসমা-উল-হূশনা বা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ' বিষয়ে পুরাে বই লিখেছেন। বর্তমানের লেখক মুনাজাত-ই মকবুলের সংযােজন হিসাবে প্রকাশিত ‘আল্লাহর সর্বাধিক সুন্দর নাম বিষয় নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মনােগ্রাফও সংকলন করেছেন (লিখেছেন মাওলানা আশরাফ আলী থানাভি রাহমাতুল্লাহ আলাইহ)।



সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াতের ফজিলত:- 

#কেউ যদি মাগরিবের পর সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত (হূয়াল্লাহূল্লাজী লা-ইলাহা) পড়ে তবে ফজর পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশ্মা তার জন্য মাগফেরাতের দোয়া করে এবং ফজরের পর পড়লে মাগরীব পর্যন্ত তদ্রুপ করে। এটি একটি হাদীসের মর্মার্থ। হাদীসটি হল-
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أحمد البيري، حدثنا خالد بن طهمان أبو العلاء الخافت، حدثني نافع بن أبي نافع، عن معقل بن يسار، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من قال حين يصبح ثلاث مراتي أغو بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم وممر ثلاث آيات من آخر سورة الحشر وكل الله به سبعين ألف ملي يصلون عليه حتى يمسي وإن مات في تلك اليوم ما شهيدا ومن قالها حين يمسي كان بتلك المنزلة " . قال أبو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه

অনুবাদ:- হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ৩বার আউজু বিল্লাহিস সামিঈল আলিমি মিনাশশাইত্বানির রাঝিমসহ 'সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা আল্লাহ তাআলা নিযুক্ত করবেন। সে ফেরেশতাগণ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবেন এবং তার ওপর আল্লাহর রহমত প্রেরণ করতে থাকবে। যদি ঐ দিন সে ব্যক্তি মারা যান তবে সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যার সময় এ আয়াতগুলাে পাঠ করবে তাঁর জন্যও আল্লাহ তাআলা ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। যারা তাঁর ওপর সকাল হওয়া পর্যন্ত রহমত প্রেরণ করতে থাকবে। আর যদি ঐ রাতে সে ব্যক্তি মারা যান তবে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। (সুনানে তিরমিজী, হাদীস
নং-২৯২২



সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত কখন ও কিভাবে পড়বেন?

হাদিস শরিফে ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর সুরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত পাঠ করার কথা বলা হয়েছে। কারণ এ সময় তা তিলওয়াত করা ফযিলত অনেক বেশি। মসজিদগুলােতে অনেকসময় ইমাম সাহেবগণ মুসল্লিদের শিক্ষা দেয়ার জন্য পড়িয়ে থাকেন। কিন্তু একাকী পড়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু যেহেতু মুসল্লিদের অনেকেই এটি জানে না, তাই এভাবে পড়ালে তাতে কোনাে আপত্তি নেই। সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ জেনে এবং অডিও শুনে সহিহ ভাবে মুখস্ত করতে পারবেন। যা নিয়মিত তিলওয়াত করে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারবেন। কারণ আল্লাহ্ তায়ালা তা মানুষের কল্যাণের জন্যই নাযিল করেছেন।
Next Post Previous Post