হযরত সুলাইমান আঃ এর জীবনী | হযরত সোলায়মান (আঃ) এর জীবনী pdf download | Hazrat Sulaiman (as.) jiboni

হযরত সুলাইমান আঃ এর জীবনী |হযরত সোলায়মান (আঃ) এর জীবনী pdf download | Hazrat Sulaiman (as.) jiboni


হযরত সুলাইমান আঃ এর জীবনী | হযরত সোলায়মান (আঃ) এর জীবনী pdf download | Hazrat Sulaiman (as.) jiboni

হযরত সোলায়মান আঃ এর পরিচয়ঃ-  হযরত সোলায়মান আঃ আল্লাহর প্রসিদ্ধ নবী ছিলেন। তিনি হযরত দাউদ আঃ এর কনিষ্ঠ পুত্র। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৯৭৫-৯৭০ এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। যে চারজন বাদশা সমস্ত পৃথিবীর শাসক ছিলেন। হযরত সোলায়মান আঃ তাদের একজন। তিনি পরিণত বয়সে উপনীত হবার পর তার পিতা হযরত দাউদ আঃ ইন্তেকাল করেন। এরপর আল্লাহ তাআলা হযরত সোলায়মান আঃ কে নবী হিসেবে হযরত দাউদ আঃ এর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং সমস্ত পৃথিবীর রাজত্ব দান করেন।

অলৌকিক ক্ষমতা লাভঃ-  নবী হিসেবে হযরত সোলায়মান আঃ এর বিশেষ মর্যাদা ছিল। আল্লাহ তাকে পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু ও জিন ইনসান এর ভাষা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সুবিশাল রাজ্যের রাজা। শাসনকার্য সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পাদন করার জন্য তিনি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যেতেন। খুব দ্রুত যাতায়াত করার জন্য মহান আল্লাহ তাকে বাতাসে ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা দান করেছিলেন। বাতাসকে তার অনুগত করে দিয়েছিলেন। তার যখন যে স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তিনি বাতাসকে আদেশ করলে বাতাস তাকে তার বিশাল সিংহাসন ও লোকজনসহ মুহূর্তে সে স্থানে পৌঁছে দিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ولسليمان الريح غدوها شهر ورواحھا شهر

অর্থঃ  আমি বায়ুকে সোলায়মান এর অধীন করেছিলাম সে সকালে একমাসের পথ অতিক্রম করত ও সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করত (সূরা সাবা, আয়াত ১২)

আল্লাহ তা'আলা জিনদের মধ্য হতে একদলকে হযরত সোলায়মান আঃ এর অধীন করে দিলেন। তারা হযরত সোলায়মান আঃ এর জন্য সমুদ্র হতে মুক্তা সংগ্রহ করে আনত। এছাড়া অন্যান্য কাজও করতো। যেমন সুউচ্চ প্রাসাদ, চৌবাচ্চার ন্যায় বড় বড়  পেয়ালা ইত্যাদি নির্মাণ করত। আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি অনুগত করে দিলাম শয়তানদের। যারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণ কারি ও ডুবুরি। ( সূরা সোয়াদ) তার বিশাল সাম্রাজ্যের গোয়েন্দার কাজ করতে আল্লাহপাক তাকে হুদহুদ নামক একটি পাখি দিয়েছিলেন। সে পাখিটি তাকে রানী বিলকিস ও তাঁর রাজত্বের সংবাদ দিয়েছে। এসব তাঁর অলৌকিক শক্তির নিদর্শন।


হযরত সোলায়মান আঃ এর বিচার শক্তিঃ-  হযরত সোলায়মান আঃ এর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শক্তি ছিল খুবই প্রখর। আল্লাহ তাআলা তাকে খুব সূক্ষ্মভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি খুব বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। একদা দুইজন নারী একটি শিশুর মাতৃত্ব দাবি করল। এর মীমাংসা করার জন্য তারা হযরত দাউদ আঃ এর নিকট এলো। সেখানে হযরত সোলায়মান আঃ ও উপস্থিত ছিলেন। হযরত সোলায়মান আঃ বললেন, শিশু হল একটি আর দাবিদার দুজন। তাহলে শিশুটি কেটে দু'ভাগ করে দুজনকে দিয়ে দেওয়া হোক। এ কথা বলে হযরত সোলায়মান আঃ একটি ছুরি হাতে নিলেন। শিশুটিকে মাটিতে শুইয়ে  দুই ভাগ করার জন্য উদ্যত হলেন। তখন একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আল্লাহর দোহাই শিশুটিকে কাটবেন না। আমি আমার দাবি ত্যাগ করলাম, শিশুটিকে জীবিত রাখুন এবং তাকে অপরজনের নিকট দিয়ে দিন। হযরত সোলায়মান আঃ বুঝলেন এ নারী-শিশুটির প্রকৃত মাতা। তখন তিনি তাকে শিশুটি দিয়ে দিলেন এবং অন্য জনকে মিথ্যা বলার দায়ে শাস্তি দিলেন।

বালক বয়সে হযরত সোলায়মান আঃ এর আরেকটি ঘটনা হলো, একতা দুজন লোক হযরত দাউদ আঃ এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বিচারপ্রার্থী হলো। তাদের একজন ছিল রাখাল অপরজন কৃষক। কৃষক তথা শস্য ক্ষেতের মালিক ছাগল রাখালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। যে রাখালের ছাগল রাতে ছাড়া পেয়ে তার সমস্ত ফসল বিনষ্ট করে ফেলেছে। সত্যতা যাচাই করার পর হযরত দাউদ আঃ রায় দিলেন। যে ছাগলের মালিক তার সমস্ত ছাগল শস্য ক্ষেতের মালিক অর্পণ করুক। মামলার বাদী বিবাদী উভয় রায় শুনে দরবার হতে যাওয়ার পথে হযরত সোলায়মান আঃ এর সাথে দেখা হল। তিনি সব শুনে বললেন, আমি রায় দিলে তা ভিন্ন হত। উভয়পক্ষের উপকার হত। হযরত সোলায়মান আঃ তার পিতার নিকট ব্যক্ত করার পর তার পিতা বলেন, এর চাইতে উত্তম রায় কি হতে পারে? হযরত সোলায়মান আঃ বললেন, আপনি সমস্ত ছাগল ক্ষেতের মালিক কে দিয়ে দিন। সেগুলোর দুধ, পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর শস্য ক্ষেত  ছাগলের মালিকের নিকট অর্পণ করুন। সে তাতে চাষাবাদ করে শস্য উৎপাদন করবে। যখন শস্য ক্ষেত ছাগলে বিনষ্ট করার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে'। তখন তা তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। হযরত দাউদ আঃ এ আয় পছন্দ করলেন এবং তা কার্যকর করতে বললেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি সোলায়মানকে এ বিষয়ের মীমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। ( সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৭৯)

বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণঃ-  হযরত সোলায়মান আঃ এর পিতা হযরত দাউদ আঃ বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার আগে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের আগে তিনি দোয়া করেছিলেন যে, হে আল্লাহ আমার সন্তানের দ্বারা তা  নির্মাণ করাও। আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করলেন। জেরুজালেমের ক্ষমতা গ্রহণ করে হযরত সোলায়মান আঃ বায়তুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মসজিদ নির্মাণের ৩০ হাজার শ্রমিকের ৭ বছর সময় লেগেছিল বলে কথিত আছে। মূলত জিন জাতিরাই এ  মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

হযরত সোলায়মান আঃ এর রাজত্বকালঃ- হযরত সোলায়মান আঃ ৪০ বছর নবুওয়াতের  দায়িত্ব পালন করেন এবং সমগ্র বিশ্ব রাজত্ব করেন। তার শাসনকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৯২০ থেকে ৯৬০ সাল পর্যন্ত।

হযরত সোলায়মান আঃ এর ইন্তেকালঃ- তার ইন্তেকালের ঘটনা বিস্ময়কর।  বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ছিল অবাধ্য এক জিন জাতি। তারা হযরত সোলায়মান আঃ এর ভয়ে কাজ করত। কিন্তু তার ইন্তেকালের আগে বায়তুল মুকাদ্দাসের কাজ শেষ হবে না। আর তার ইন্তেকালের সংবাদ জানলেও জিনেরা  কাজ করবেনা। ফলে বায়তুল মুকাদ্দাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই হযরত সোলায়মান আঃ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আল্লাহর নির্দেশে ব্যবস্থা নিলেন যে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তার স্বচ্ছ কাঁচের নির্মিত মেহরাবে বিশেষ কক্ষে প্রবেশ করলেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। যথা সময়ে তাঁর আত্মা দেহ থেকে বের হয়ে গেল। কিন্তু লাঠির উপর ভর করে তার দেহ অনড় থাকায় বাহিরে থেকে মনে হতো তিনি ইবাদতরত আছেন। জিনেরা তাকে জীবিত মনে করে দিনের পর দিন কাজ করতে থাকে। এমন অবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হয়। এর মাঝে বায়তুল মুকাদ্দাসের কার্য সমাপ্ত হয়। অন্যদিকে আল্লাহর ইচ্ছা হযরত সোলায়মান আঃ এর লাঠির উইপোকায় খেয়ে ফেলে। হযরত সোলায়মান আঃ এর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন সবাই জানতে পারলো যে, তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৩ বছর।
হযরত সুলাইমান (আঃ) এর জীবনী pdf download  করতে চাইলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 

পোস্টটি ভাল লাগলে আরো পড়ুন......
Next Post Previous Post